প্রতিবেদক : কালচার talk

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য : ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
সম্পাদনা, কোরিওগ্রাফি ও নৃত্য পরিচালনা : চকিতা চট্টোপাধ্যায়
প্রযোজনা : স্টেডিয়াম ভিউ কোঅপারেটিভ ঋতায়ন

মনের জোর থাকলে যে সকল বাধাবিঘ্নকে অনায়াসেই অতিক্রম করা যায় তা
সম্প্রতি রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রমাণ করলেন স্টেডিয়াম ভিউ কোঅপারেটিভ
ঋতায়নের সদস্যরা। মাত্র চারটি চরিত্র… শ্রীরাধিকা, শ্রীকৃষ্ণ, ললিতা ও বিশাখাকে
নিয়ে কোরিওগ্রাফার ও নৃত্য পরিচালিকা চকিতা চট্টোপাধ্যায় সাহস দেখালেন
রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ মঞ্চস্থ করার ! আপাতদৃষ্টিতে হয়তো এঁদের
বয়স এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনোটাই এই নৃত্যনাট্যটি উপস্থাপনের দিক
দিয়ে আদৌ যোগ্য নয়, কারণ এঁদের কেউ বা আর্থারাইটিসে কাবু, আবার কেউ
সদ্য মুখোমুখি হয়েছিলেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার ! তবু, অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে, রবি
ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে সব বাধাকে জয় করে এঁরা এগিয়ে এসেছেন !
নৃত্যপ্রভাকর চকিতা চট্টোপাধ্যায়ের সুচারু সম্পাদনায় নৃত্যনাট্যটি উপস্থাপিত
হয়েছে। শুরুতেই শুভ্রা চট্টোপাধ্যায়ের ভাষ্যপাঠের মধ্যে দিয়ে নৃত্যনাট্যটির
সারাংশ নিবেদিত হয়েছে দর্শকদের উদ্দেশ্যে।


নিধুবনে মিলনোন্মুখ শ্যামসুন্দরের সুমধুর বাঁশির ডাকে সাড়া দিতে যাবার পথে
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন শ্রীরাধিকা। দুর্যোগের শেষে রাইকে যখন
নতুন করে সখীরা আবার প্রস্তুত করছেন প্রিয়মিলনের জন্য, এবং রাধাও আকূল হয়ে
প্রতীক্ষা করছেন তাঁর প্রিয়তমর আগমনের, ঠিক তখন তাঁর আশাভঙ্গ করে তাঁর
কুঞ্জে এসে পৌছচ্ছেন না শ্রীকৃষ্ণ। মানিনী রাধা অভিমানে ছিঁড়ে ফেলছেন তাঁর গলার
মালা ! শ্যামজ্ঞানে বরণ করে নিতে চাইছেন মৃত্যুকে ! সখী ললিতা তাঁকে বোঝাতে
চাইছেন, সাজাতে চাইছেন নতুন করে, কিন্তু রাধার মনের সংশয় তবু যাচ্ছে না !
শেষপর্যন্ত যখন সখী বিশাখার সঙ্গে শ্যামরায় এসে প্রবেশ করছেন রাধার
কুঞ্জে, তখন মানিনী রাইয়ের মনের সব অভিমান দূরে সরে গিয়ে বসন্তের
কোকিল ডেকে উঠছে ! সখীরা রাধাকৃষ্ণের যুগলমিলন প্রত্যক্ষ করে ধন্য হচ্ছেন !
