প্রতিবেদক : কালচারাল talk



রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ( নাটক বিভাগ ) নবীনবরণ “আ ভা স” সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো বি টি রোড ক্যাম্পাসের নটী বিনোদিনী মঞ্চে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করলেন বিভাগীয় অধ্যাপক ডঃ সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী। মঞ্চস্থ হলো বহরমপুর কৃষ্ণায়ন প্রযোজিত ছাত্রছাত্রী অভিনীত নজরকাড়া নাটক “ রাজা কৃষ্ণনাথ”। ১৮২২ সালে জন্ম নেওয়া কাশিম বাজারের স্বল্পায়ূ রাজা কৃষ্ণনাথকে কেন্দ্র করে নাটক বোধহয়
মঞ্চে এই প্রথমবার এলো। প্রবল বিদ্যোৎসাহী এই খামখেয়ালি রগচটা রাজা মৃত্যুর আগে তাঁর সমস্ত বিষয় সম্পত্তি দান করে যান একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার স্বপ্নে। যে সময় তিনি এই স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সময় ভারতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাই গড়ে ওঠেনি কারো মনে !


নাটকটি শুরু হচ্ছে এক গবেষক ঝুনুবাবুকে দিয়ে, যিনি দেখতে এসেছেন এই দলের নাটক। তিনি তাদের অনুরোধ করেন রাজা কৃষ্ণনাথের অভিশপ্ত জীবন নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করতে। নাট্যকার সন্দীপ বাগচীকে ধন্যবাদ এমন একটি নাটক লেখার জন্য।
নাটকের টিমওয়ার্ক খুব ভালো। যার ফলে নাটকে গতি বিঘ্নিত হয়নি। আলাদা ভাবে নজর কাড়েন ঝুনুবাবুর ভূমিকায় অনিরুদ্ধ বিশ্বাস ও রাজা কৃষ্ণনাথের চরিত্রে নির্দেশক কৃষ্ণপ্রসাদ পাল। এই নাটকের আরও অভিনয় হলে নাট্যমোদী মানুষ লাভবান হবেন।


এরপরই ছিল অধ্যাপিকা চকিতা চট্টোপাধ্যায় রচিত ও পরিচালিত ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমন্বিত শ্রুতিনাটক “শিউলি ফুলের গন্ধ”। কন্যাসন্তানকে পড়াশোনা শেখানোতে আজও মানুষের অনাগ্রহ। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কন্যাসন্তানের সেই লড়াই এ জেতাকে কেন্দ্র করেই এই নাটক। বিভিন্ন চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করেছেন শাশ্বতী দাশগুপ্ত , সায়ন্তী ঘটক, সায়ন্তন পাল, গৌতম ভট্টাচার্য্য, প্রসেনজিৎ দাস, অচিন্ত্য মুখার্জী ও চকিতা চট্টোপাধ্যায়। আবহের ( অচিন্ত্য মুখার্জী ) সুচারু ব্যবহার নাটকটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় দেবাঞ্জন চট্টপাধ্যায়।
একক আবৃত্তি পরিবেশনায় ডঃ দেবপ্রসাদ রায়।
শেষার্ধে ছিল আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন মুখার্জীর একক পরিবেশন।