প্রতিবেদক : চকিতা চট্টোপাধ্যায়

নাটকঃ রাজা অয়দিপাউস
নাট্যকারঃ সোফক্লিস
অনুবাদঃ শম্ভু মিত্র
প্রযোজনা : রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নাটক বিভাগ
নির্দেশনা: সমরেশ বসু

সম্প্রতি ধনঞ্জয় মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সমরেশ বসু নির্দেশিত রবীন্দ্রভারতী
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের স্নাতক ষষ্ঠ সেমিস্টারের একটি প্রযোজনা গ্রীক
নাট্যকার সোফোক্লিসের কালজয়ী নাটক “কিং ইডিপাস”এর প্রবাদপ্রতীম
নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রী শম্ভু মিত্রকৃত অনুবাদ “রাজা অয়দিপাউস”। “বহুরূপী” নাট্য দলের
একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা হিসেবে স্বীকৃত এই দৃষ্টান্তস্বরূপ নাটকটি প্রযোজনার
সাহস প্রদর্শনের জন্য অবশ্যই ধন্যবাদপ্রাপক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক
বিভাগ।
গ্রীক ট্র্যাজেডির প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো মানুষ সেখানে নিয়তিনির্ভর, এবং
নিয়তিচালিত পুতুলমাত্র !
নাটকটির ট্র্যাজিক হিরো ইডিপাস রেক্স বা রাজা অয়দিপাউস ছিলেন এক বিরল
দুর্ভাগ্যের শিকার, যাঁকে নিজের অজান্তেই নিজের মাকে স্ত্রীরূপে ও নিজের সন্তানদের
মা হিসেবে পেতে হয়েছিল নিয়তিরই চরম পরিহাসে! অজান্তেই হতে হয়েছিল
পিতৃহন্তাও! নিজের জীবনের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি উদ্ঘাটিত হওয়ার পর যিনি
নিজেই নিজের দুই চোখ অন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন !



ধনঞ্জয় মুক্তমঞ্চে সূর্যের আলোয় সেদিন বহু গুণীজনের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হলো
নাটকটি। মঞ্চের সামনে দর্শকদের বসার গ্যালারির ধাপ ও মঞ্চের পেছনের
দেওয়ালের ওপরের ছাদটিকেও নির্দেশক সুচারুরূপে ব্যবহার করেছেন নাটকের
পাদপীঠ হিসেবে। শুধু অভিনয়ই নয়, সেই সঙ্গে যথোপযুক্ত মঞ্চ ও প্রপ্স এবং
পোশাকও তৈরী করেছেন এইসব শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক-নির্দেশক শ্রীবসুর তত্বাবধানে।
কোরাসের মুখোশের ব্যবহার, লায়ার বাজাতে বাজাতে সঙ্গীত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের সুর-ভাঙ্গা সঙ্গীতের ব্যবহার এবং সর্বোপরি টিমওয়ার্ক প্রযোজনাটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অভিনয়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মৃগাঙ্ক মন্ডলের অয়দিপাউস ও মৃত্তিকা বসুর
তাইরেসিয়াস। পুরুষের চরিত্রে মৃত্তিকার অভিনয় মনে রাখার মতো ! মেষপালকের
ভূমিকায় সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথার উইগটি অসর্তকতায় খুলে এলেও তাতে
তাঁর অভিনয়ে বিঘ্ন ঘটেনি।
সামান্য দোষত্রুটি থাকলেও নাটকটি দেখে একই সঙ্গে চোখ ও মন দুইই যে ভরে
গেছে সেকথা অনস্বীকার্য !