
ঘুম নেবে মা? ঘুম? সেইসব ফেলে আসা ঘুম?
ওমা তুই ! কতদিন পর এলি বাবা। গতবার সেই যে রোদ্দুর দিয়ে গেলি, আমার বাছারা এখনো সেকথা বলে।
আসতে তো চাই মা। কিন্তু কাজ থাকে বিস্তর গো, ফুরসৎ মেলেনা। এখন বলো, ভালো ঘুম নেবে মা?
হ্যাঁ হ্যাঁ নেবো। বড় ভালো সময়ে এসেছিস। বাবুটা তো গতমাস থেকে শহরে গেছে পড়তে। বড্ড চাপ জানিস বেচারার। বলে ভালো করে ঘুম হয়না। হলেও বড্ড ছাড়া ছাড়া।
শহরে তো ভেজাল ধুলো ধোঁয়া ওটমিলের ঘুম মা। ছাড়া ছাড়া তো হবেই। তুমি এইটা নিয়ে রাখো। এবার এলে দাদাবাবুকে দিও। আর কিচ্ছু ভেবোনা।
হ্যাঁ রে ভালো হবে তো?
পূর্ণিমা রাতে দীঘির কালো শীতল জল জমিয়ে তাতে অল্প একমুঠো কর্পূর ফেলে তৈরী ঘুম গো মা। কষ্টিপাথরের মতো টানটান হবে এক্কেবারে। ভোরে উঠে ক্লান্তির একটা পালকও থাকবেনা শরীরে।
বাহ্। তুই এমন করে বলিস, শুনেও শান্তি। আচ্ছা এবার আমার একটা ব্যবস্থা কর দেখি। এইসব অশান্তিতে দুপুরে খাওয়ার পরে একটুখানি যে শুতাম সেই ঘুম গিয়েছে আমারও।
তুমি তবে এইটে নাও মা। এর নাম কল্পগন্ধরাজ। দুপুরের গরমে চোখের দু পাতা এক করলেই বড় আরাম পাবে। আর তোমার কাজেরও কোনো ক্ষতি হবেনা মা। এ ঘুম পাতলা এমন যেন ফড়িংয়ের ডানা।
বেশ। তাই। এবার তুই বলতো বাবা এই যে সারাদিন পথে পথে ঘুরে বেড়াস, বিশ্রাম হয় তোর? ঘুম হয় তোর নিজের?

হয় গো। কাঁচামিঠে আমের গায়ে যেমন রোদ পড়ে, তেমন ঘুম। কিংবা কোনোদিন বনের পথে যেতে যেতে খুব খিদের মুখে খুঁজে পাওয়া টাটকা মিষ্টি আতার মতো ঘুম। আর পুজোর কদিন তো সকলের মনে এমনিতেই বড় আনন্দ। তখন আমার ছুটি। সেই ঘুমগুলো ভারি শান্তির ছিল। নাম দিয়েছি শিউলিশিশির। একবার তোমার জন্যও নিয়ে আসবো। আজ তবে আসি মা।
আয় বাবা। বড় তাড়া থাকে তোর।
এই দেখো, কেমন ভুলোমন আমি। তোমার খুকুর মেয়ে হয়েছে যে, তার জন্য মিছরি আলোর ঘুম এনেছি একফোঁটা। না দিয়েই চলে যাচ্ছিলাম।
হ্যাঁরে, তুই কী কেবল দিয়েই যাবি?
কোনোদিন দাম নিবিনা কিছু? নেবোনা কী গো, এই যে তোমরা সকলে এত আরামে এত শান্তিতে ঘুমোবে, সেটুকু জেনে সেই আনন্দটুকু বুকে নিয়ে যাচ্ছি তো গো মা।
এ কী কম দাম হলো !
এবার তোমার পা দুখানি বাড়াও তো একটু, সে ধুলো মাথায় নিয়ে আমি রওনা দিই।
চিত্র সৌজন্যঃ Goolge
অসম্ভব সুন্দর একটি লেখা, আহা কল্পগন্ধরাজ ঘুম, মিছরি আলোর ঘুম ভারি সুন্দর। ❤️❤️
Thank you so much