প্রতিবেদন : চকিতা চট্টোপাধ্যায়

প্রযোজনা : কল্যাণী কলামন্ডলম
নির্দেশনা : ডঃ শান্তনু দাস

সম্প্রতি দক্ষিণ দমদম নাট্যোৎসব ‘২৫ এ অভিনীত হলো কল্যাণী কলামন্ডলম প্রযোজিত, ইংরেজি নাটক “The war zone is my bed” অবলম্বনে নাটক “ রক্তাক্ত ঝরোখা”। ইয়াসমিন বেভারলি রানার মূল রচনা থেকে বাংলা নাটকটি লিখেছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, রূপকল্প ও নির্দেশনা ডঃ শান্তনু দাসের।
যুদ্ধ যে মানুষের জীবনের এক সম্পূর্ণ অন্য রূপান্তর ঘটাতে পারে তা তুলে ধরেছে এই নাটক। যুগ-কাল-দেশ নির্বিশেষে যুদ্ধের সঙ্গে নারীর বিশেষ করে ঘটেছে এক অবশ্যম্ভাবী অভিসংঘাত ! তা সে রাম-রাবণের লঙ্কা কান্ডে সীতাই হোক অথবা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে দ্রৌপদী, কিংবা ট্রয়ের যুদ্ধে হেলেন ! বাদ পড়েনি সাধারণ নারীরাও ক্ষতবিক্ষত হওয়া থেকে ! তাই বোধহয় যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একুশ শতকের নারীরা সেই যুদ্ধকেই হাতিয়ার করতে পেরেছে নতুন করে বেঁচে ওঠার তাগিদে ! দ্বিধাহীনভাবে তাই তারা যৌনতা বেচেছে, দুঃখ বেচেছে আর পাঁচজন বিক্রেতার মতোই !


এ নাটকের কাহিনী আফগান যুদ্ধের পটভূমিকায় দুজন পতিতা নারী ডাহলিয়া আর লায়লার। একজন তালিবান সেনা দ্বারা প্রাপ্ত মৃত্যুদন্ড থেকে অ্যাশ নামক এক অপরিচিত যুবকের দ্বারা উদ্ধারপ্রাপ্ত, আর একজন এক আমেরিকান জার্নালিস্ট পিটারের সঙ্গে অজ্ঞাতবাসিনী। আর আছে এক প্রতিষ্ঠিত বানিজ্যিক লেখক টোনি। এই পাঁচজনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এই নাটক। ডাহলিয়া শেষপর্যন্ত এই যুদ্ধকেই পুঁজি করে লেখিকা হিসেবে বেচতে সক্ষম হয়েছে তার নিজের এবং লায়লার জীবনের গল্প ! পুরুষের দম্ভকে, হিংস্রতাকে হারিয়ে ছিনিয়ে নিতে পেরেছে তার প্রতিষ্ঠা, তার স্বীকৃতিকে ! আর এইখানেই কোথাও গিয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তারা দুজন… লায়লা আর ডাহলিয়া ! টোনি এবং পিটারের মতো দাম্ভিক পুরুষরা যতই তাকে বানানো গল্পকার হিসেবে দেগে দিতে চাক না কেন !
সিম্পল সাজেস্টিভ সেট, সঙ্গে ব্যঞ্জনাময় আলোর ব্যবহার নাটকটির সম্পদ ! অভিনয়ে প্রত্যেকেই যথাযথ।বিশেষ করে ডাহলিয়ারূপী মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় ও লায়লার ভূমিকায় অনন্যা দাসের কথা আলাদাভাবে উল্লেখযোগ্য।
শেষ হবার পরেও যে নাটক ভাবায়, “রক্তাক্ত ঝরোখা” নিঃসন্দেহে সেই রকমই একটি নাটক !