
সম্প্রতি নর্থ পঞ্চমখু নাট্যসংস্থার চদ্দোতম জন্মদিন উপলক্ষ্যে গিরিশ মঞ্চে আয়োজিত হয়েছিল “ অধিকার” নামাঙ্কিত
একটি নাট্যসন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংস্থার কর্ণধার দেবাশীষ বসু সম্বর্ধিত করেন সেদিনের প্রধান অতিথিদের।
যাঁদের মধ্যে ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব বিধাতৃ বসু, চকিতা চট্টোপাধ্যায় ও সুমিত কুমার রায়। তাঁরা প্রত্যেকেই সংস্থার
শুভকামনায় তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এরপর ছিল দুটি ছোট নাটক, সমরেশ বসুর “আদাব” গল্পের অনসুরণে “মানুষ” ( নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেবাঞ্জন
বসু) এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “কর্তার ভূত” গল্পের অনুপ্রেরণায় “আয়না” ( নাটক : হিন্দোল ভট্টাচার্য্য ও নির্দেশনা
সুস্মিতা সেন)।
নতুন প্রজন্মের নাট্যকার-নিদের্শক-কুশীলবদের আন্তরিকতার ছাপ সুস্পষ্ট দুটি নাটকেই।
প্রথম নাটক :
সমরেশ বসুর “আদাব” গল্পের অনসুরণে “মানুষ”
নাট্যরূপ ও নির্দেশনা : দেবাঞ্জন বসু



হিন্দু মসুলমান দটিু চরিত্রে যথাক্রমে সায়ন্তল পাল ও সাত্ত্বিক দাসের অভিনয় ছিল যথাযথ। দাঙ্গাবাজ দলনে তার
(আকাশ মাজি ) ভয়াবহ অভিব্যক্তিতে চমকে উঠতে হয়! শেষে মরবিডিটির বদলে এই নাটক দেখিয়েছে আশার দিশা।
এজন্য ধন্যবাদপ্রাপক নাট্যকার তথা নির্দেশক দেবাঞ্জন বসু।
দ্বিতীয় নাটক : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “কর্তার ভূত” এর অনুপ্রেরণায় “আয়না”
নাটক : হিন্দোল ভট্টাচার্য্য
নির্দেশনা : সুস্মিতা সেন



“আয়না” নাটকে রবীন্দ্রনাথের “কর্তার ভূত” এর সেই অচলায়তন ভাঙ্গার কথাই বলেছেন নাট্যকার প্রাসঙ্গিক একাধিক সামাজিক সমস্যাকে তুলে ধরে । ভালো লাগে যখন শেষ দৃশ্যে প্রত্যেক চরিত্র কালো কাপড়ে চোখ ঢেকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে একটি আয়না! এজন্য বাহবা দিতেই হয় নির্দেশক সুস্মিতা সেনকে ।
তবু দুএকটি কথা বলতেই হয়।”মানষু” নাটকে প্রথম যখন হিন্দুটি মসুলমানটির পরিচয় জানতে পারছে , তখন সে
আতঙ্কে স্থবির হয়ে গেলে বোধহয় ভালো হতো। মুখ থেকে বিড়িটা আপনা থেকেই খসে পড়লে হয়তো তার এ অবস্থায়
নিরুপায় ভাবটা আরও প্রকট হতো। যখন পুলিশ আসার খবর দিতে ছুটে এলো দাঙ্গাবাজের দলের লোকটি, তার
আগেই পুলিশের জীপের শব্দ পাওয়া উচিত ছিল। আলোর ব্যবহারে আরও একটু সর্তকতার প্রয়োজন কারণ মাঝে মাঝে
শ্যাডো পড়ছিল অভিনেতাদের।
“আয়না” নাটকের ক্ষেত্রে একটা কথা বলার আছে , মনে রাখতে হবে সমাজের স্থবির মনোভাবের প্রতিনিধি কিন্তু একা
ঠাকুমা নন, মনের ভেতরে “অচলায়তন” বয়ে বেড়ানো মা-বাবাও, নাহলে যে বড় একবগ্গা হয়ে যায় “কর্তার
ভূত” এর সনাক্তিকরণ!