প্রতিবেদক : চকিতা চট্টোপাধ্যায়

সিনেমা : অদম্য
পরিচালনা: রঞ্জন ঘোষ

চলচ্চিত্র হলো সেই দর্পণ যাতে একটি জাতি মুখ দেখে, নিজেকে চিনতে পারে, জানতে পারে, এবং ভবিষ্যতের পথ খুঁজে নিতে পারে। অনেকদিন পর তেমনি একটি ছবি দেখলাম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর রঞ্জন ঘোষের ছবি “অদম্য”।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের শতবর্ষে তাঁর “দেশলাই কাঠি” কবিতার অনুপ্রেরণায় এই ছবি। আমাকে যেটি সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে সেটি হলো এই ছবির “SYMBOLISM”, এটা শুধু ছবিটির বিষয়বস্তুর “JOURNEY” নয়, সেই সঙ্গে পরিচালকের “JOURNEY” রও গল্প। একটা দেশলাই কাঠির ভেতর যেমন সবকিছুকে জ্বালিয়ে দেবার বারুদ থাকে, ঠিক তেমনি গল্পের মুখ্য চরিত্র “পলাশ” ( আরয়ূন ঘোষ) চেষ্টা করে যায় তার ভেতরের বারুদ দিয়ে এই পচে যাওয়া ক্ষয়ে যাওয়া সমাজটাকে আলোকিত করতে। সেটা করতে গিয়ে তাকে ত্যাগ করতে হয়েছে বাড়ির নিশ্চিন্ত আশ্রয়। বেছে নিতে হয়েছে প্রতিটি মুহূর্তের উৎকণ্ঠার জীবনকে। পারুক না পারুক তবু এই প্রচেষ্টা সে ছাড়েনি শেষ নিঃশ্বাস অবধি। ঠিক তেমনি নানান প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে হয়তো একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরকে নিজের সৃষ্টিকে প্রতিষ্ঠা করতে লড়াইটা চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়। “পলাশ”এর ভূমিকায় আরয়ূন ঘোষ কোনো সময়ের জন্যই অভিনয় করেননি, শুধু “BEHAVE” করেছেন।
মুগ্ধ করে ছবিটির CINEMATOGRAPHY ( অর্কপ্রভ দাস), SOUND DESIGN (অদীপ সিং মাঙ্কি), EDITING & MIXING ( কৌশিক রায়) , টানটান চিত্রনাট্য ও ঝকঝকে MAKING (পরিচালক রঞ্জন ঘোষ)।
ভালো লাগে বিশেষ কয়েকটি মুহূর্ত। যে ঘরটিতে পলাশ আত্মগোপন করে, সেটি তার সুনিপুণ ভাবে বাসযোগ্য করে তোলার দৃশ্যটি… এটি যেন পৃথিবীরই সমার্থক হয়ে ওঠে ! যে আবর্জনাময় পৃথিবীকে “সাফ” করার গুরুদায়িত্ব পলাশ বহন করছে ! ভালো লাগে চায়ের দোকানের সিকোয়েন্স। শিশু-শ্রমিকটির অদ্ভুত নির্লিপ্ত Expression অনেকদিন মনে থাকবে।
সবশেষে ধন্যবাদ জানাতেই হবে স্বনামধন্য প্রযোজকদ্বয় অঞ্জন বসু ( অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন ) ও বজরংলাল আগরওয়াল ( চ্যানেল বি এন্টারটেনমেন্ট) কে, যাঁরা ছবিটিকে দর্শকদের মধ্যে তুলে ধরে হয়তো বা একটি নতুন পথের সন্ধান দিলেন, যে পথে আগামীর বাংলা চলচ্চিত্র তার হৃতগৌরব আবার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।