
প্রতিবেদক : কালচারাল talk


গত পয়লা জানুয়ারি ২০২৬, হাতিবাগানের বয়েজ ওন লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নর্থ পঞ্চমুখ নাট্যসংস্থা আয়োজিত যৌথ নাট্য সন্ধ্যা “রঙ্গম”। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের অধ্যাপিকা শ্রীমতী চকিতা চট্টোপাধ্যায় । মঞ্চে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্বর্ধিত করেন দলের নাট্যগুরু শ্রী দেবাশীষ বসু। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন চকিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে হাতিবাগান থিয়েটারের ঐতিহ্য ও একদা স্বর্ণযুগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।


প্রথম নাটক “ইচ্ছে” র ( রচনা : দেবাশীষ বসু, নির্দেশনা : দেবাঞ্জন বসু ) বিষয়বস্তু হলো স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ইচ্ছেকে প্রাধান্য না দিয়ে মা-বাবা তার ওপর যে দৈনন্দিন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন, তা কি আদৌ শিশুর মনের বিকাশে বাধা
হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? প্রত্যেকেই সাবলীল অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে সিঞ্চনীপাল ও নির্দেশক স্বয়ং। তবে নাটকের ক্লাইম্যাক্সে আরও নাটকীয়তার প্রয়োজন ছিল।
দ্বিতীয় নাটক “আবর্ত” ( রচনা ও নির্দেশনা : সায়ন্তন পাল) একটি সুররিয়ালিস্টিক নাটক, যেখানে দেখানো হয়েছে গঙ্গাধর লজে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে অপূর্ব ও বন্যা জড়িয়ে পড়ে এক রহস্যময়তার জালে। অনবদ্য অভিনয় করেছেন সায়ন্তন পাল (গঙ্গাধর) ও হিন্দোল ভট্টাচার্য্য ( টুকাই)। অন্যরাও যথাযথ।



শেষ নাটকটির নাম “দেখো কান্ড”, রচনা ও নির্দেশনা সায়ন্তন পাল। সংলাপ মুখস্থ না করে মঞ্চে উঠে যখন অভিনেতারা যে যার মতো অভিনয় করতে থাকে,তখন পরিচালকের মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকে না I প্রত্যেকের প্রাঞ্জল অভিনয় দেখতে দেখতে সত্যিই চমৎকৃত হতে হয়! প্রাণভরে হাসার জন্যও এই নাটকটি অন্তত দেখতে হবেই।
একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে মঞ্চে তুলে আনার কৃতিত্বের দাবীদার নর্থপঞ্চমুখ নাট্যসংস্থার কর্ণধার দেবাশীষ বসু।