
তোমার বনলতার শরীরে পান্ডুলিপি লেখা শতাব্দী
হেমন্তের কার্তিকের দৃশ্য আম-জারুলের ফাঁকে মাঝে মাঝে ফুটে ওঠে
জারুলের নীলাভ নীরবতার গন্ধ বাতাসে ঝরে
অভিজাত ধানসিড়িটির তীরে অর্থের খোঁজ করে।
নিবিড় অন্ধকারে প্রতিভার বরে নগ্ন নির্জনতা হাত বাড়ায়
রূপকথার জিয়নকাঠির স্বপ্নে দেখা ঘুমন্ত পুরীতে।
শিরীষের ডালপালা আদমের মতো অর্বাচীন কার্তিকের ভোরে,
হেমন্তের ধান কাটা হয়ে গেছে উদাসীন ট্রামে ছোবলে।
হরিণীর হাঁটা পথে স্বপ্নের ধ্বনির মধুকূপী স্তনে শব্দ শিশিরে মাখা
অঘ্রাণ প্রান্তরে নগ্ন নির্জন হাত বাড়ায় নরম সবুজ ঘাসে
শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতরে সুদীর্ঘকাল তারার আলো আবহমান হৃদয়ে।
আলোর বুকেতে অতঃপর নক্ষত্র হারায়ে ফেলে
বর্ণ বনলতা বিপ্লবী, সিন্ধু ঢেউয়ের মতো বসুন্ধরার ডাকে
অধমর্ণ ছোঁয়াছে কবি যতদিন আলো আছে পৃথিবীর বুকে
পৌনঃপুনিক চির ঋণশোধে তোমাকে চিরকাল জাগাবে।