সমালোচক : চকিতা চট্টোপাধ্যায়

রচনা : শিবশঙ্কর চক্রবর্তী ও শুভ্র ভট্টাচার্য্য
সম্পাদনা ও নির্দেশনা : সমরেশ বসু
প্রযোজনা : শ্যামবাজার নাট্যচর্চা কেন্দ্র

সম্প্রতি মিনার্ভা প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শ্যামবাজার নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নবতম প্রযোজনা “ ভালোবাসার মানুষ”। রচনা শিবশঙ্কর চক্রবর্তী ও শুভ্র ভট্টাচার্য্য, সম্পাদনা ও নির্দেশনা সমরেশ বসু।
বাল্যপ্রেম পরিণতি পায়না অনেকের ক্ষেত্রেই , যেমন তা পায়নি সুকমল (সমরেশ বসু) আর সারীর ( ন্যান্সী ) জীবনেও। তবে, পরিণতি না পেলেও সেই প্রেমের পরিসমাপ্তিও ঘটেনা অনেক সময়, আর তাই সুক অর্থাৎ সুকমল ছুটে আসে বহু বছর পরে তার সারীর সংসার দেখতে। কিন্তু যা সে দেখে তা হয়তো সে
কখনই দেখতে চায়নি !
নাটকের কিছু কিছু মুহূর্ত মনে থাকবে, যেমন ছোট সুক ও সারীর মাছ ধরতে ধরতে প্রেম করা, ন্যাড়া ও তার চ্যালার মস্তানীর দৃশ্যগুলো। বড় ও ছোট সুক-সারীর চেহারার অদ্ভুত সাদৃশ্য চোখে পড়ল ! এজন্য নির্দেশক বাহবা-প্রাপক ! সাবলীল অভিনয় করেছেন ভানু মিত্র। নাটকের রূপসজ্জার দায়িত্বেও ছিলেন তিনিই।

দ্বিতীয় ভাগে ছিল রক্তকরবীর,বতর্মান সময়ের প্রেক্ষাপটে রিভিজিট। রক্তকরবীর চরিত্রদের এখানে বতর্মান সময়ে দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। দুটি অংশের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছেন শ্যামাশিস পাহাড়ী। ভালো লাগে “রাজা”র ভূমিকায় তাঁর অভিনয়। এছাড়াও নজর কেড়েছেন মৃত্তিকা বসু ( বেগম), সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ( হোম মিনিস্টার )
সদ্যপ্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের বিভিন্ন গানকে অনবদ্যভাবে ব্যবহার করেছেন নির্দেশক।
অযথা দীর্ঘায়িত না হলে হয়তো আরও গতিময় হতো “ ভালোবাসার মানুষ”।