সমালোচক : চকিতা চট্টোপাধ্যায়

প্রযোজনা : রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার রেপারেটরি
নাট্যকার: রতন সন্যায়মত
নির্দেশক : গগনদীপ
সম্প্রতি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার রেপারেটরি প্রযোজিত কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও দর্শন কেন্দ্রীক নাটক “ঝিলিমিলি আঁকা বাঁকা” অনুষ্ঠিত হলো নটী বিনোদিনী মঞ্চে। একঘন্টা চল্লিশ মিনিটের এই নাটকে কাজী নজরুলের মতো এমন বহুমুখী প্রতিভার জীবন তুলে ধরা খুব সহজ ছিলনা, তবু সেই দুরূহ কাজটি সাধন করতে পেরেছেন নাট্যকার, এজন্য অবশ্যই তিনি ধন্যবাদপ্রাপক। সুনির্দেশনায় একসূত্রে সেটি গেঁথে তুলেছেন নাটকের নির্দেশক গগনদীপ তাই অভিনন্দন প্রাপক তিনিও।


ভালো লাগে নজরুলের জীবনের প্রতিটি বিশেষ ঘটনাকে ক্যালিগ্রাফির ( শুভেন্দু সরকারকৃত) সাহায্যে দর্শকের সামনে তুলে ধরার ভাবনাটি । নজরুলের বিভিন্ন গানকে বিভিন্ন সিচুয়েশনে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন নির্দেশক, তাঁকে আবহে সাহায্য করেছেন গৌতম ঘোষ। ব্যঞ্জনাময় আলোক পরিকল্পনা (শান্তনু দাসকৃত) নাটকটিকে আরও বেশি নান্দনিক করে তোলে। সবচেয়ে প্রশংসার দাবী রাখে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের টিমওয়ার্ক। ছোট্ট শিশু কিমায়াও যেখানে অনায়াসে কবিপুত্র “বুলবুল” হয়ে উঠে সাবলীল গলায় গেয়ে ওঠে, “প্রজাপতি প্রজাপ্রতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা !”
বিভিন্ন বয়সের “নজরুল” হয়ে উঠেছেন অনুপমা ভাদুড়ি, অর্ণব সেনগুপ্ত, সায়ক মুখার্জী, সুশান্ত ব্যানার্জী। অন্যান্য চরিত্রে শুভ্রাংশু মুখার্জী, ইপ্সিতা ঘোষ, সায়ন্তী ঘটক, সৌভিক শর্মা, মেহতাব, পারোমিতা প্রমুখরাও যথাযথ। ধন্যবাদ প্রাপক রূপসজ্জা পরিকল্পনার দায়িত্বপ্রাপ্ত শুভাশীষ হালদার এবং পোশাক পরিকল্পনার জন্য নির্দেশক স্বয়ং।
তবে, নজরুলের ছবিতে তাঁর কাঁধে কাপড়ের ঝোলাই বরাবর দেখা গেছে, তার পরিবর্তে যুবক নজরুলের কাঁধে সুদৃশ্য আধুনিক ব্যাগ বেমানান লেগেছে।
এমন একটি পরিচ্ছন্ন প্রযোজনা অবশ্যই অভিনন্দন যোগ্য।